১২তম উলামা সংলাপ ২০২৬

বাংলাদেশে প্রবর্তিত একমাত্র ত্বরিকা, বিশ্বসমাদৃত ত্বরিকায়ে মাইজভাণ্ডারীয়ার প্রবর্তক গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর দ্বিশততম জন্মবার্ষিকী ও ১২০তম ১০ মাঘ উরস শরিফ উপলক্ষে ‘এস জেড এইচ এম ট্রাস্ট’-এর ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘মাইজভাণ্ডারী একাডেমি’ আয়োজিত ‘উদার ও নৈতিক সমাজ বিনির্মাণে উলামায়ে কেরামের ভূমিকা’ শীর্ষক ‘১২তম উলামা সংলাপ ২০২৬’ নগরীর জামালখানস্থ ‘সুলতান আহমদ হল’ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়।

ড. মাওলানা মুহাম্মদ নুরুন্নবী আযহারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংলাপে মুখ্য আলোচনায় অংশগ্রহণ করেনÑ ঢাকা প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন, চট্টগ্রাম নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার ফকিহ মাওলানা এবি এম আমিনুর রশিদ এবং রাউজানস্থ কামালিয়া দরবার শরিফের শাহজাদা ছৈয়দ মাসুম কামাল আযহারী। সংলাপে আলোচকগণ বলেনÑ উদার ও নৈতিক সমাজ গঠনের জন্য সর্বপ্রথম ধর্মীয় চিন্তায় যুগোপযোগী সংস্কার আনতে হবে এবং ইসলামের মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতে হবে। অজ্ঞতা, গণ্ডি সংকীর্ণতা ও ধর্মীয় উগ্রতা পরিহার করে নৈতিকতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা জরুরি। আলেম-উলামাদের নিজেদের চরিত্রকে উত্তম নৈতিকতায় গড়ে তুলে তা সমাজে প্রচার ও প্রসারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। তরুণদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করতে হবে এবং তাদের প্রশ্নের যুক্তিসঙ্গত উত্তর দিতে হবে। আলেম-উলামাদের যুগের চাহিদা ও সমসাময়িক জ্ঞানে সমৃদ্ধ হওয়া, অন্যের দোষ অনুসন্ধান না করে নিজেদের আত্মসমালোচনায় মনোনিবেশ করার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। সংলাপে আলোচকগণ আরও বলেনÑ আল্লাহর রাসূল (দ.) তায়েফে, মক্কা বিজয়ের সময়, বিভিন্ন যুদ্ধবন্দিদের ক্ষমা করে উদারতার মহান দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। আবার ভিন্নধর্মাবলম্ভীদের সাথে ধর্মগ্রহণে জবরদস্তি, জুলুম করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেউদারতা ও নৈতিকতার অনন্য এক নজির স্থাপন করেন। তিনি বহুত্ববাদী সমাজে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি অবলম্বন করে একটি সুখি সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠা করে পৃথিবীর ইতিহাসে অতুলনীয় দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেন। যা বর্তমানে আলেম সমাজে ভুলতে বসেছে বিধায় তারা অবহেলিত হচ্ছে। এর জন্য আরো প্রয়োজন যুগোপযোগী জ্ঞান চর্চা ও সমকালীন বৈশ্বিক বিজ্ঞান প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে অবগত থাকা। সহাবস্থানের ভিত্তিতে সমাজ বিনির্মাণের জন্য আলেমগণের ভুমিকা অপরিসীম ও ব্যাপক। তাই যুবক আলেমগণকে নিজেদের আরো বেশি উদার, নৈতিক ও জ্ঞান চর্চার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আলোচনায় অংশ নেন মাওলানা শেখ সাইফুল্লাহ্ ফারুকী, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবুল কাছেম, মাওলানা মুহাম্মদ আবুল হাশেম, মাওলানা মুহাম্মদ তানভীর আযহারী, মাওলানা জাহেদুল ইসলাম আযহারী, মাওলানা মুহাম্মদ মুনিরুল হক মিজান, মাওলানা এস এম শফিউল আলম, মাওলানা মুহাম্মদ জিয়াউল কাদের, মাওলানা মুহাম্মদ মুনির উদ্দিন, মাওলানা মুহাম্মদ আবু সাঈদ শাহীন, মাওলানা মুহাম্মদ হাসান মুহাম্মদ শরফুদ্দিন, মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহীম, মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহমান, সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়সাল আবেদীন ফরহাদাবাদী, মাওলানা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। সংলাপে উপস্থিত ছিলেন- মাওলানা কাজী হাবিবুল হোসাইন, মাওলানা মুহাম্মদ ওসমান গনি, মাওলানা মুহাম্মদ বোরহান উদ্দীন সিদ্দিকী, মাওলানা মুহাম্মদ মুজিবুল হক, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইকবাল, সৈয়দ আবু আহমদ, মাওলানা মুহাম্মদ আজিমুল হক, মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল কাদের ছাকিব আল কাদেরী, মাওলানা মুহাম্মদ আহমদ ইয়ার খান, মাওলানা মুহাম্মদ জোবাইদুর রহমান, হাফেজ মাওলানা মিজানুর রহমান, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মুহাম্মদ মিফতাহুন নুর, চৌধুরী, মুহাম্মদ তানভীর উদ্দিন, মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান প্রমূখ। এতে পর্যবেক্ষক ছিলেন এস জেড এইচ এম ট্রাস্ট সচিব অধ্যাপক এ ওয়াই এমডি জাফর এবং অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ তরিকুল আলম।

আরো দেখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ডিজিটাল যাকাত বাক্স

আর্তমানবতার সেবায় আপনার যাকাত প্রদান করতে বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়সহ যে কোনো ব্যাংকিং অ্যাপ থেকে স্ক্যান করুন।