কখনো কখনো একটি মুহূর্তই বদলে দেয় জীবনের পরিচিত পথ। কিন্তু পথ বদলে গেলেই স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় না—সাহস আর সুযোগ পেলে মানুষ আবারও নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে পারে।
রাবেয়া সুলতানা পিংকি—চট্টগ্রামের দক্ষিণ কাট্টলীর সরাইপাড়ার এক সংগ্রামী নারী। মা ও দুই বোনকে নিয়ে চারজনের সংসার। বাবা বেশ কয়েক বছর ধরে নিখোঁজ। পরিবারের বাস্তবতা কঠিন হলেও নিজের দক্ষতা ও পরিশ্রমে জীবনকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি।
পিংকি একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। চট্টগ্রামের একটি স্বনামধন্য গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে ভালো বেতনে চাকরি করতেন। কর্মব্যস্ত জীবনে ছিল স্বপ্ন, ছিল পরিবারকে আগলে রাখার প্রত্যয়।
কিন্তু একদিন রাস্তা পার হওয়ার সময় ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। তাঁর কোমর ও হাঁটু ভেঙে যায়। অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলেও আগের মতো দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে গার্মেন্টসে কাজ করার শারীরিক সক্ষমতা আর নেই।
চাকরি থেমে গেল, কিন্তু থামেনি পিংকির স্বপ্ন।
তিনি বুঝতে পেরেছিলেন—শরীর হয়তো আগের মতো সঙ্গ দিচ্ছে না, কিন্তু তাঁর হাতে এখনো রয়েছে ফ্যাশন ডিজাইনের অভিজ্ঞতা, সেলাইয়ের দক্ষতা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছাশক্তি।
সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণাধীন জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডে একটি মোটরযুক্ত সেলাই মেশিনের জন্য আবেদন করেন তিনি।
তাঁর পারিবারিক ও শারীরিক অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রদান করা হয় একটি মোটরযুক্ত সেলাই মেশিন।
আজ সেই সেলাই মেশিনটি শুধু কাপড় সেলাইয়ের একটি উপকরণ নয়—এটি পিংকির কাছে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর অবলম্বন, আত্মনির্ভরতার স্বপ্ন এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ গুছিয়ে নেওয়ার এক নতুন সূচনা।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পিংকি বলেন—
“আমি আমার ফ্যাশন ডিজাইনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ঘরে বসে কাজ শুরু করতে চাই। ধীরে ধীরে একটি ক্ষুদ্র ব্যবসা গড়ে তুলে নিজের পায়ে দাঁড়াব। মা ও দুই বোনকে নিয়ে সম্মানের সঙ্গে সংসার গুছিয়ে নেওয়াই আমার স্বপ্ন। যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ড আমার প্রয়োজনের সময়ে যে সহযোগিতা করেছে, তা আমাকে শুধু একটি সেলাই মেশিন দেয়নি—নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস দিয়েছে।”
একটি সেলাই মেশিন হয়তো ছোট্ট একটি সহায়তা, কিন্তু একজন সংগ্রামী নারীর হাতে সেটিই হয়ে উঠতে পারে আত্মমর্যাদা, জীবিকা ও স্বাবলম্বী ভবিষ্যতের চাবিকাঠি।

