• জানুয়ারি ২০, ২০২৬

    হোছনেয়ারা বেগমের সফল অস্ত্রোপচার

    যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের সহায়তায় সফল অস্ত্রোপচার

    🟢 মানবজীবন কখনো কখনো অসহায়তার এমন এক প্রান্তে এসে দাঁড়ায়, যেখানে বেঁচে থাকার আশাটুকুও হয়ে ওঠে অনিশ্চিত। ঠিক তেমনই এক মানবিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিলেন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আশিয়া গ্রামের বাসিন্দা হোছনেয়ারা বেগম (৬৮)।

    🟢 মরহুম ছৈয়দ আহমদ ও আছমা খাতুনের কন্যা হোছনেয়ারা বেগম দীর্ঘ চার বছর আগে স্ট্রোকজনিত কারণে শারীরিকভাবে আংশিক পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন। অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেই চলছিল তাঁর জীবন। এরই মধ্যে এক মাস আগে গোসল করতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত পা পিছলে পড়ে গিয়ে গুরুতরভাবে পায়ের হাড় ভেঙে যায়। দ্রুত তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার করানো তাঁর পরিবারের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠছিল না।

    🟢 এই অবস্থায় মানবতার শেষ আশ্রয় হিসেবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয় শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের সঙ্গে। বিষয়টি অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ড মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে হোছনেয়ারা বেগমের সম্পূর্ণ চিকিৎসার ভার গ্রহণ করে।

    🟢 আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে আজ তাঁর অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। দীর্ঘ যন্ত্রণার পর তাঁর চোখেমুখে এখন স্বস্তির ছাপ—যেন নতুন করে বাঁচার আলো ফিরে পেয়েছেন তিনি।

    🟢 এই মানবিক উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করে, যাকাত শুধু দান নয়—এটি অসহায় মানুষের জন্য জীবন বাঁচানোর এক শক্তিশালী মাধ্যম। যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের এ ধরনের সহানুভূতিশীল কার্যক্রম সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

  • জানুয়ারি ১২, ২০২৬

    ভুল নিয়মে ওরস্যালাইন ব্যবহারে বাড়ছে ‘লবণের বিষক্রিয়া’

    ডায়রিয়া ও বমিজনিত পানিশূন্যতা থেকে জীবন বাঁচাতে ওরস্যালাইন (ORS) একটি বিশ্বস্বীকৃত ও কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ভুল নিয়মে ওরস্যালাইন ব্যবহার শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—অল্প পানিতে ওরস্যালাইন গুলে খাওয়ানো বা ডাবের পানির সঙ্গে মেশানো শিশুর কিডনি বিকল হওয়া পর্যন্ত গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

    কীভাবে সমস্যা তৈরি হয়?

    ওরস্যালাইন একটি নির্দিষ্ট অনুপাতে লবণ ও গ্লুকোজের সমন্বয়। এটি কাজ করে তখনই, যখন তা নির্ধারিত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানিতে গুলে খাওয়ানো হয়।
    কিন্তু অনেক অভিভাবক পুরো প্যাকেট ওরস্যালাইন আধা লিটার বা তারও কম পানিতে গুলে ফেলেন অথবা ডাবের পানির সঙ্গে মিশিয়ে দেন। ফলে শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত লবণ প্রবেশ করে।

    এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় Hypernatremia বা লবণের বিষক্রিয়া—যেখানে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

    শিশুর শরীরে কী ঘটে?

    শিশুর কিডনি খুবই সংবেদনশীল। অতিরিক্ত লবণ শরীরে ঢুকলে—

    • কিডনি রক্ত থেকে লবণ ছেঁকে বের করতে অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ে
    • শরীর থেকে দ্রুত পানি বের হয়ে গিয়ে মারাত্মক পানিশূন্যতা তৈরি হয়
    • মস্তিষ্কে পানি কমে গিয়ে খিঁচুনি, অচেতনতা এমনকি কোমা পর্যন্ত হতে পারে
    • কিডনি অস্থায়ী বা স্থায়ীভাবে বিকল হয়ে যেতে পারে

    অনেক ক্ষেত্রে শিশুর প্রস্রাব কমে যায়, শরীর ফুলে ওঠে, শ্বাসকষ্ট হয় এবং দ্রুত হাসপাতালে না নিলে জীবননাশের ঝুঁকি দেখা দেয়।

    ডাবের পানির সঙ্গে স্যালাইন কেন বিপজ্জনক?

    ডাবের পানিতে প্রাকৃতিকভাবেই কিছু লবণ ও মিনারেল থাকে। যখন তার সঙ্গে আবার ওরস্যালাইন মেশানো হয়, তখন—

    • লবণের মাত্রা দ্বিগুণ হয়ে যায়
    • শরীরের স্বাভাবিক ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়
    • শিশুর কিডনি ও মস্তিষ্কে মারাত্মক চাপ পড়ে

    এটি অনেক সময় অভিভাবকদের অজান্তেই শিশুর মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করে।

    সঠিক নিয়ম কী?

    বিশেষজ্ঞদের মতে—

    • ওরস্যালাইনের প্রতিটি প্যাকেট নির্ধারিত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানিতে (যা প্যাকেটে লেখা থাকে) গুলতে হবে
    • কখনোই অর্ধেক পানি, ডাবের পানি, জুস বা অন্য কোনো তরলের সঙ্গে মেশানো যাবে না
    • মিশ্রণ তৈরির পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার শেষ করতে হবে

    সচেতনতা জরুরি

    ডায়রিয়া শিশুদের একটি সাধারণ রোগ হলেও ভুল ওরস্যাল্‌যালাইন প্রয়োগ সেটিকে প্রাণঘাতী করে তুলতে পারে। তাই প্রতিটি মা–বাবা ও অভিভাবকের জানা অত্যন্ত জরুরি—
    যে ওরস্যালাইন জীবন বাঁচায়, ভুল নিয়মে সেটিই শিশুর কিডনি ধ্বংস করতে পারে।

    জনসচেতনতা ও সঠিক জ্ঞানই পারে এই নীরব বিপদ থেকে আমাদের শিশুদের রক্ষা করতে।

  • জানুয়ারি ১১, ২০২৬

    ১২তম উলামা সংলাপ ২০২৬

    বাংলাদেশে প্রবর্তিত একমাত্র ত্বরিকা, বিশ্বসমাদৃত ত্বরিকায়ে মাইজভাণ্ডারীয়ার প্রবর্তক গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর দ্বিশততম জন্মবার্ষিকী ও ১২০তম ১০ মাঘ উরস শরিফ উপলক্ষে ‘এস জেড এইচ এম ট্রাস্ট’-এর ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘মাইজভাণ্ডারী একাডেমি’ আয়োজিত ‘উদার ও নৈতিক সমাজ বিনির্মাণে উলামায়ে কেরামের ভূমিকা’ শীর্ষক ‘১২তম উলামা সংলাপ ২০২৬’ নগরীর জামালখানস্থ ‘সুলতান আহমদ হল’ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়।

    ড. মাওলানা মুহাম্মদ নুরুন্নবী আযহারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংলাপে মুখ্য আলোচনায় অংশগ্রহণ করেনÑ ঢাকা প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন, চট্টগ্রাম নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার ফকিহ মাওলানা এবি এম আমিনুর রশিদ এবং রাউজানস্থ কামালিয়া দরবার শরিফের শাহজাদা ছৈয়দ মাসুম কামাল আযহারী। সংলাপে আলোচকগণ বলেনÑ উদার ও নৈতিক সমাজ গঠনের জন্য সর্বপ্রথম ধর্মীয় চিন্তায় যুগোপযোগী সংস্কার আনতে হবে এবং ইসলামের মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতে হবে। অজ্ঞতা, গণ্ডি সংকীর্ণতা ও ধর্মীয় উগ্রতা পরিহার করে নৈতিকতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা জরুরি। আলেম-উলামাদের নিজেদের চরিত্রকে উত্তম নৈতিকতায় গড়ে তুলে তা সমাজে প্রচার ও প্রসারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। তরুণদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করতে হবে এবং তাদের প্রশ্নের যুক্তিসঙ্গত উত্তর দিতে হবে। আলেম-উলামাদের যুগের চাহিদা ও সমসাময়িক জ্ঞানে সমৃদ্ধ হওয়া, অন্যের দোষ অনুসন্ধান না করে নিজেদের আত্মসমালোচনায় মনোনিবেশ করার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। সংলাপে আলোচকগণ আরও বলেনÑ আল্লাহর রাসূল (দ.) তায়েফে, মক্কা বিজয়ের সময়, বিভিন্ন যুদ্ধবন্দিদের ক্ষমা করে উদারতার মহান দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। আবার ভিন্নধর্মাবলম্ভীদের সাথে ধর্মগ্রহণে জবরদস্তি, জুলুম করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেউদারতা ও নৈতিকতার অনন্য এক নজির স্থাপন করেন। তিনি বহুত্ববাদী সমাজে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি অবলম্বন করে একটি সুখি সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠা করে পৃথিবীর ইতিহাসে অতুলনীয় দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেন। যা বর্তমানে আলেম সমাজে ভুলতে বসেছে বিধায় তারা অবহেলিত হচ্ছে। এর জন্য আরো প্রয়োজন যুগোপযোগী জ্ঞান চর্চা ও সমকালীন বৈশ্বিক বিজ্ঞান প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে অবগত থাকা। সহাবস্থানের ভিত্তিতে সমাজ বিনির্মাণের জন্য আলেমগণের ভুমিকা অপরিসীম ও ব্যাপক। তাই যুবক আলেমগণকে নিজেদের আরো বেশি উদার, নৈতিক ও জ্ঞান চর্চার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আলোচনায় অংশ নেন মাওলানা শেখ সাইফুল্লাহ্ ফারুকী, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবুল কাছেম, মাওলানা মুহাম্মদ আবুল হাশেম, মাওলানা মুহাম্মদ তানভীর আযহারী, মাওলানা জাহেদুল ইসলাম আযহারী, মাওলানা মুহাম্মদ মুনিরুল হক মিজান, মাওলানা এস এম শফিউল আলম, মাওলানা মুহাম্মদ জিয়াউল কাদের, মাওলানা মুহাম্মদ মুনির উদ্দিন, মাওলানা মুহাম্মদ আবু সাঈদ শাহীন, মাওলানা মুহাম্মদ হাসান মুহাম্মদ শরফুদ্দিন, মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহীম, মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহমান, সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়সাল আবেদীন ফরহাদাবাদী, মাওলানা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। সংলাপে উপস্থিত ছিলেন- মাওলানা কাজী হাবিবুল হোসাইন, মাওলানা মুহাম্মদ ওসমান গনি, মাওলানা মুহাম্মদ বোরহান উদ্দীন সিদ্দিকী, মাওলানা মুহাম্মদ মুজিবুল হক, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইকবাল, সৈয়দ আবু আহমদ, মাওলানা মুহাম্মদ আজিমুল হক, মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল কাদের ছাকিব আল কাদেরী, মাওলানা মুহাম্মদ আহমদ ইয়ার খান, মাওলানা মুহাম্মদ জোবাইদুর রহমান, হাফেজ মাওলানা মিজানুর রহমান, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মুহাম্মদ মিফতাহুন নুর, চৌধুরী, মুহাম্মদ তানভীর উদ্দিন, মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান প্রমূখ। এতে পর্যবেক্ষক ছিলেন এস জেড এইচ এম ট্রাস্ট সচিব অধ্যাপক এ ওয়াই এমডি জাফর এবং অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ তরিকুল আলম।

  • জানুয়ারি ১০, ২০২৬

    🌐 আমাদের ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম!

    জানতে চান আমাদের মানবিক কার্যক্রম, সেবামূলক উদ্যোগ ও চলমান প্রজেক্টগুলোর সর্বশেষ আপডেট?
    তাহলে এখনই ভিজিট করুন আমাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে।

    ✨ এখানে পাবেন—
    🔹 যাকাত কার্যক্রমের বিস্তারিত
    🔹 চিকিৎসা, শিক্ষা ও মানবসেবার রিপোর্ট
    🔹 ছবি, ভিডিও ও বাস্তব গল্প
    🔹 সরাসরি অনলাইন যোগাযোগের সুবিধা

    মানবতার পাশে থাকার প্রতিটি পদক্ষেপই পরিবর্তন আনে।
    চলুন, ভালোবাসা আর সহযোগিতার পথে একসাথে এগিয়ে যাই। 🤝💚

  • জানুয়ারি ৬, ২০২৬

    “মশারির ছায়ায় নিরাপদ পরিবার”

    পাহাড়ি এলাকার হতদরিদ্র মানুষের মাঝে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মশারি প্রদান

    আজ মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬, সকাল ১০টায়, শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ড–এর ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দুর্গম জনপদ ধোপাছড়ি ইউনিয়ন–এর উত্তর ধোপাছড়ি মংলার মুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থানীয় পাহাড়ি এলাকার হতদরিদ্র মানুষের মাঝে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মশারি সহায়তা প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাহজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম
    প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম আল মাসুদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মানবতার সেবা ও রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা—এই দু’টি লক্ষ্যকে সামনে রেখে যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ড নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গম ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোই আমাদের অঙ্গীকার।”

    অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআনুল কারিম থেকে তেলাওয়াত করেন মোহাম্মদ আলফাজ উদ্দিন মিনকি
    টি এম সেলিম উদ্দিন–এর সঞ্চালনায় আয়োজিত এই মানবিক সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান উল্লাহ চৌধুরী বিভন, হযরত সৈয়দ জালাল উদ্দিন বোখারী (র.) দাতব্য চিকিৎসালয়–এর তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার ডা. আবদুর রহমান,
    এছাড়াও নুরুল কবির মেম্বার, সৈয়দ ছাদরুল হুদা মামুন, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, আকতার কামাল, আমিনুল হক, মুহাম্মদ শাহনাজ, সিহাম, হৃদয় হোসেন, মিজান, রিফাত, আরফাত, মফিজুর করিম ও জাহেদ প্রমুখ।

    বক্তারা বলেন, পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। এ ধরনের মশারি সহায়তা কর্মসূচি দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থানীয় জনগণ এই মানবিক উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায় এবং আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

    শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। মানবিক দায়বদ্ধতা ও সেবার এই ধারা অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ।

  • ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫

    মাননীয় ম্যানেজিং ট্রাস্টি মহোদয়ের বাণী


    বাণী
    বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

    ১০ পৌষ শাহানশাহ্ হযরত মাওলানা সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)’র ৯৭তম খোশরোজ শরিফ উপলক্ষে ক্রোড়পত্র প্রকাশকে স্বাগত জানাই। তাঁর সত্য নির্যাস বাণী, ‘আমার দরবার প্রাচ্যের বায়তুল মুকাদ্দাস, সকল জাতির মিলন কেন্দ্র।’ তাঁর এই রূপক বাণীর অন্তরাত্মা হলো সর্বশেষ ঐশীগ্রন্থ আল কোরআন। কোরআন ঘোষণা দিয়েছে বিপুল বিশ্বব্রহ্মাণ্ড হচ্ছে বিশ্ব স্রষ্টারই বহিঃপ্রকাশ। পৃথিবী ঘুরে ঘুরে দেখে প্রশস্ত হৃদয়ে মানুষ উপলব্ধি করে নিশ্চিত হয়েছে লৌকিকতা, আনুষ্ঠানিকতা হচ্ছে মানবজাতির সৃষ্টি সৌন্দর্য এবং রূপবৈচিত্র্যের খোদায়ী রহস্য। এর মধ্যে আবৃত আছেন সকল সৃষ্টির অবিনশ্বর সত্ত্বা মহান স্রষ্টা আল্লাহ্। তাই পৃথিবীতে বিরাজমান লৌকিকতা-আনুষ্ঠানিকতা বিষয়ে সংঘাত নয় বরং পারস্পরিক সম্মান-শ্রদ্ধা পোষণের মাধ্যমে মানবের জন্য সুন্দর সহাবস্থানের পৃথিবী নির্মাণই আজকের বাস্তবতা। ‘বায়তুল মুকাদ্দাস’ পৃথিবীর সকল আস্তিক্যবাদীদের জন্য এ স্তরের পৃথিবী গড়ার ঐশী ঠিকানা। আস্তিক্যবাদীদের ঐক্যের এ ঠিকানা নিশ্চিতের জন্য ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রয়োজন আন্তঃধর্মীয় মতবিনিময়। মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফ এ দাওয়াত পেশ করছে ‘আদম-হাওয়ার’ সূত্র ধরে পৃথিবীর সকল মানুষের প্রতি বায়তুল মুকাদ্দাসের ঠিকানায়। আল্লাহ আমাদেরকে মহান ১০ পৌষ উপলক্ষে এ ধরনের মহৎ চিন্তায় বিকশিত করুন। আল্লাহ হাফেজ। আস্-সালাম।

    সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান
    সাজ্জাদানশীন গাউসিয়া হক মনজিল
    দরবার-ই-গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী ও
    ম্যানেজিং ট্রাস্টি, এস জেড এইচ এম ট্রাস্ট মাইজভাণ্ডার শরিফ, চট্টগ্রাম।

  • ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫

    কনকনে শীতে মানবতার উষ্ণ স্পর্শ

    কনকনে শীতে মানবতার উষ্ণ স্পর্শ: গোলাকান্দাইলে শীতার্তদের পাশে যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ড

    🟢 শীতের কনকনে ঠান্ডায় যখন নিম্নআয়ের মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে আরও কঠিন, ঠিক সেই সময় মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ড।

    প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনায় গতকাল ১৪ ডিসেম্বর রবিবার, সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার ভূলতা ইউনিয়নের গোলাকান্দাইল এলাকায় কয়েক শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত ও শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

    🟢 এই শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন এলাকার অসহায় নারী-পুরুষ, বয়স্ক মানুষ, শিশু, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া দরিদ্র জনগোষ্ঠী। শীতবস্ত্র পেয়ে অনেকের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি। কারও চোখে ছিল আবেগের জল।

    🟢 যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের দায়িত্বশীলরা জানান, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অবহেলিত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোই এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ও আদর্শ। শীত মৌসুমে মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    🟢 সাংগঠনিক সমম্বয়ক মোহাম্মদ হোসেন আলী’র সভাপতিত্বে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সম্মানীত মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম আল মাসুদ, সহ-সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান উল্লাহ চৌধুরী বিভন।

    🟢 এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাংগঠনিক সম্বয়ক সৈয়দ মোঃ সাইফুদ্দীন ইউসুফ মিলন, মেজবাবুর রহমান রাবানীও হাজি মোঃ সাহাজউদিন মিয়া। চাঁদপুরী মাঝিনা ঘাট জামে মসজিদের ঈমাম,মাওলানা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মোঃ ইকবাল পরবে স্যার (সভাপতি, মিঠাবো হাটাবো শাখা), মোঃ নুরুজ্জামান ভূঁই (সভাপতি, উত্তর কাঞ্চন শাখা),মোঃ জাকির হোসেন (সভাপতি,গির্দাসা শাখা), মোহাম্মদ দুলাল শিকদার (সভাপতি,বাইলা শাখা), মোঃ রেজাউদ্দিন (সভাপতি,কদমতলা শাখা),মোহাম্মদ জাকারিয়া (সভাপতি,পাড়াগাঁও বাজার শাখা), মোহাম্মদ লতিফ সরকার (সভাপতি,মাসুমপুর মোল্লাবাড়ি শাখা), মোঃ আব্দুল হাকিম ডাক্তার (সভাপতি,বামনগাঁও শাখা), হাজী মোহাম্মদ শামসুল মেম্বার মীর (সভাপতি,গদাই কবুতর বাড়ির শাখা), মোহাম্মদ রমজান মিয়া (সভাপতি,মুড়াপাড়ার শাখা), মোহাম্মদ আনছার আলী (সভাপতি,কান্তি শাখা), মোঃ বাচ্চু মিয়া (সভাপতি,কুদুর মার্কেট শাখা), ডাক্তার কাশেম মিয়া (সভাপতি,পিতলগঞ্জ পশ্চিম পাড়ার শাখা), মোঃ বেলু মিয়া (সভাপতি,ভান্ডার ভুলতা শাখা),মোহাম্মদ সাহাজ উদ্দিন (সভাপতি,রূপগঞ্জ শাখা) ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ মান্নান মোল্লা প্রমুখ।

    🟢 সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় পুরো কার্যক্রম। স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং বলেন, এ ধরনের মানবিক কাজ সমাজে সহমর্মিতা ও ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দেয়। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতেও অসহায় মানুষের পাশে থেকে মানবসেবার এই ধারাকে আরও বিস্তৃত করবে।

  • ডিসেম্বর ৬, ২০২৫

    সেলাই প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ বিতরণ ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

    রাউজানের নোয়াজিষপুরে সেলাই প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ বিতরণ ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

    🟢 মানবসেবার মহৎ অঙ্গীকারকে ধারণ করে শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট বহু বছর ধরে নীরবে, আন্তরিকতায় ও মমতায় কাজ করে যাচ্ছে মানুষের কল্যাণে। সেই আদর্শ বুকে ধারণ করে যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াজিষপুরে প্রতিষ্ঠিত শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী প্রশিক্ষণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের নতুন জীবনের দিশারী।

    🟢 এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ৮ম ব্যাচের সেলাই প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র বিতরণ এবং ৯ম ব্যাচের ফাইনাল পরীক্ষা—দুটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন যথাযথ মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।

    সনদ বিতরণের অনাবিল আনন্দ -সেদিন সকালেই প্রশিক্ষণকেন্দ্রের প্রাঙ্গণে এক বিশেষ আবহ সৃষ্টি হয়। সাদামাটা সাজসজ্জা, আশাব্যঞ্জক মুখ আর নতুন স্বপ্নে উজ্জ্বল চোখ—সব মিলিয়ে যেন এক মানবিক উপলক্ষের চিত্রপট আঁকা হয়ে ওঠে। ৮ম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীরা তিন মাসব্যাপী সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে যখন সনদপত্র গ্রহণের জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ালেন, তখন তাদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছিল আত্মবিশ্বাসের দীপ্ত আলো।

    🟢 সনদ গ্রহণের মুহূর্তটি কেবল একটি কাগুজে স্বীকৃতি নয়—এটি ছিল তাদের দীর্ঘ চেষ্টা, অধ্যবসায় ও শেখার প্রতি নিষ্ঠার এক সুন্দর প্রতিদান। অনেক প্রশিক্ষণার্থীর হাতে থাকা সনদ যেন তাদের ভবিষ্যতের নতুন পথচলার প্রতীক হয়ে উঠেছিল। বক্তারা তাদের উৎসাহিত করে বলেন, এই দক্ষতা নারীদের স্বনির্ভরতার দ্বার উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    ৯ম ব্যাচের ফাইনাল পরীক্ষা—দক্ষতার দৃশ্যমান প্রয়াস– একই দিনে অনুষ্ঠিত হয় ৯ম ব্যাচের ফাইনাল পরীক্ষা। পরীক্ষার সময় প্রশিক্ষণার্থীরা যে মনোযোগ, আন্তরিকতা এবং দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন, তা প্রশিক্ষকদের মনে গভীর তৃপ্তি এনে দেয়। সেলাই মেশিনের শব্দ আর হাতে-কলমে কাজের ধ্বনি মিলিয়ে যেন কর্মময়তার এক সুর বেজে ওঠে পুরো কেন্দ্রে।

    🟢 পরীক্ষার্থীদের কাজে ফুটে উঠেছিল তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা—কাটিং, প্যাটার্ন তৈরি, সেলাই এবং পোশাক নির্মাণের প্রতিটি ধাপে ছিল তাদের নৈপুণ্যের পরিচয়। প্রশিক্ষকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও আগামী দিনগুলোতে সমাজে স্বাবলম্বী ও দক্ষ নারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবেন।

    নারী উন্নয়নে প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ভূমিকা– প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নারীদের কর্মমুখী শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের সহায়তায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা ঘরে বসেই আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন। অনেকেই ইতোমধ্যে ছোট উদ্যোগ শুরু করেছেন, আবার কেউ কেউ বৃহত্তর পরিসরে কাজের স্বপ্ন দেখছেন। এ উদ্যোগ নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

    উপসংহার-রাউজানের নোয়াজিষপুরের এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যেন নারীদের আশার আলো জ্বালানোর এক নীরব প্রদীপ। ৮ম ব্যাচের সনদ বিতরণ ও ৯ম ব্যাচের ফাইনাল পরীক্ষা শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়—এটি নারীদের আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম ও স্বপ্নযাত্রার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের সহযোগিতায় নারীর ক্ষমতায়নের এ প্রয়াস ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হোক—এ প্রত্যাশায় অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।

    🟢 এতে উপস্থিত ছিলেন আকতার হোসেন, মনজুরুল ইসলাম চৌধুরী, আহসান উল্লাহ চৌধুরী বিভন, কাজী হেলাল উদ্দীন, সৈয়দ মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন ও মোহাম্মদ ফোরকান উদ্দীন বাবলু প্রমুখ।

  • ডিসেম্বর ১, ২০২৫

    দিল মোহাম্মদের অপারেশন সফল হলো মানবতার উষ্ণতায়

    চট্টগ্রাম, ২২ নভেম্বর ২০২৫ — জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনের মতো ছোট্ট টং দোকানের পথে রওনা দিয়েছিলেন জালালাবাদের বাসিন্দা দিল মোহাম্মদ। কিন্তু সেদিনের সেই সকাল তার জীবনে নিয়ে আসে এক দুঃস্বপ্ন। বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন তিনি; ভেঙে যায় তার বাম হাত। পথচারিদের সহায়তায় দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    হাসপাতালের চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে অপারেশনের পরামর্শ দিলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তা ছিল তার নাগালের বাইরে। মৃত পিতা এখলাছুর রহমান ও মৃত মাতা ফরিদা খাতুনের এই সন্তান দীর্ঘদিন ধরেই দরিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে আসছেন। টং দোকানের সামান্য আয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে বড় ধরনের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা ছিল প্রায় অসম্ভব। চিকিৎসা ও ওষুধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় তাকে একেবারে নিঃস্ব করে দেয়। আশপাশের কিছু মানুষের সহায়তায় চিকিৎসার চেষ্টা চালালেও অপারেশনের খরচ ছিল সবচেয়ে বড় বাঁধা।

    নিরুপায় হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের মাধ্যমে তিনি যোগাযোগ করেন শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাঁরি (ক.) ট্রাস্ট পরিচালিত যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ড–এর সঙ্গে। মানবকল্যাণে নিবেদিত এই প্রতিষ্ঠান তার অসহায় অবস্থার কথা জানার পর এগিয়ে আসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। দিল মোহাম্মদের অপারেশনের পুরো ব্যয়ভার তুলে নেয় যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ড কর্তৃপক্ষ।

    মানবিক এই সহায়তার ফলে অবশেষে আজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে তার বাম হাতের অপারেশন। চিকিৎসকদের মতে, যথাযথ পুনর্বাসন ও চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে তিনি খুব দ্রুত সুস্থতার পথে ফিরতে পারবেন।

    দিল মোহাম্মদ গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান—
    “যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের কাছে আমি জীবন পেয়েছি। তাদের এই উপকার আমি কখনো ভুলব না।”

    এ ঘটনা আবারও প্রমাণ করে—সমাজের প্রত্যেক মানুষ যদি সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসে, তবে অসহায় মানুষের জীবন বদলে যেতে পারে মানবতার উষ্ণতায়। যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের এই উদ্যোগ সমাজে মানবিক মূল্যবোধের একটি আদর্শ উদাহরণ হয়ে থাকবে।

  • নভেম্বর ২১, ২০২৫

    নারীস্বাস্থ্য সচেতনতা সেমিনার : প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম

    প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম—নারীস্বাস্থ্য সচেতনতা সেমিনার’ শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনা

    নারীর স্বাস্থ্য আমাদের পরিবার, সমাজ ও জাতীয় উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। জন্ম থেকে কৈশোর, প্রজননকাল, মাতৃত্ব, মেনোপজ এবং বার্ধক্য—প্রতিটি ধাপে নারীরা অনন্য কিছু শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যান। বয়ঃসন্ধিকালের হরমোনগত রূপান্তর, গর্ভাবস্থার ঝুঁকি, সন্তান জন্মের পর শারীরিক পরিবর্তন, মেনোপজ পরবর্তী জটিলতা—এসব বিষয়ে সঠিক ধারণা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ অনেক সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারে। তাই নারীদের জন্য সঠিক স্বাস্থ্যশিক্ষা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।

    ঠিক এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ড নিয়মিতভাবে আয়োজন করে আসছে ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম—নারীস্বাস্থ্য সচেতনতা সেমিনার’ শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনার অনুষ্ঠান। এখানে অংশগ্রহণ করেন কিশোরী, নববিবাহিতা, গৃহিণি, কর্মজীবী নারীসহ বিভিন্ন বয়সী নারী।

    শরীরবৃত্তীয় বিষয়ে কুসংস্কার দূর করতে মুক্ত আলোচনা

    সেমিনারের অন্যতম আকর্ষণ হলো নারীদের শরীরবৃত্তীয় স্বাভাবিক বিষয়গুলো নিয়ে মুক্ত আলোচনা। সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণা, লজ্জা ও কুসংস্কার অনেক সময় নারীদের স্বাস্থ্য সমস্যাকে গভীর করে তোলে। বিশেষ করে ঋতুচক্র, প্রজনন স্বাস্থ্য, গর্ভধারণকালীন জটিলতা, মাতৃস্বাস্থ্যবিধি, সন্তান পরিচর্যা, পুষ্টি ও মানসিক সুস্থতা সম্পর্কে অনেকে পর্যাপ্ত তথ্য জানেন না।

    এই সেমিনারে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সহজ ভাষায় এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। বয়ঃসন্ধিকালের পরিবর্তন, পিরিয়ড–সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পরিবার–পরিচর্যার মানসিক চাপ মোকাবিলা, মাতৃকালীন পরামর্শ ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরা হয় বাস্তব উদাহরণসহ। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সমস্যা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পান।

    মানসিক প্রফুল্লতা সৃষ্টি করে জ্ঞানের আলো

    নারীরা দীর্ঘদিন ধরে শরীরবৃত্তীয় কোন সমস্যা বা উদ্বেগ নিজেদের মধ্যে চেপে রাখেন—এটি অস্বাভাবিক নয়। সামাজিক সংকোচ, পরিবারের বিদ্যমান রীতি, কিংবা তথ্যের অভাব—সব মিলেই বিষয়গুলো আরও জটিল হয়ে ওঠে। সেমিনারটি নারীদের জন্য যেন একটি নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য জায়গা তৈরি করে দেয়, যেখানে কোন লজ্জা বা সংকোচ ছাড়াই তাঁরা নিজেদের কথা বলতে পারেন।

    ফলে অংশগ্রহণকারী নারীদের মনে তৈরি হয় একধরনের মানসিক প্রফুল্লতা, স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস। ভুল ধারণা দূর হওয়ায় তাঁদের মধ্যে তৈরি হয় সচেতনতা, যা ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের উদ্যোগ : সমাজ পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত

    শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের অধীনস্থ যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ড দীর্ঘদিন ধরে মানবিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। নারীস্বাস্থ্যকে কেন্দ্র করে এ ধরনের নিয়মিত সেমিনার কেবল স্বাস্থ্য–শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমই নয়, বরং সমাজে কুসংস্কারমুক্ত সচেতন নারীর প্রজন্ম গঠনের একটি বাস্তব প্রয়াস।

    উপসংহার

    নারীর স্বাস্থ্য শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি সমাজের সার্বিক উন্নয়নের শর্ত। নারীদের স্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন, মাতৃত্বকালীন যত্ন, প্রজনন স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানই পারে একটি সুস্থ, সচেতন ও শক্তিশালী সমাজ গড়ে তুলতে। যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে নারীস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

ডিজিটাল যাকাত বাক্স

আর্তমানবতার সেবায় আপনার যাকাত প্রদান করতে বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়সহ যে কোনো ব্যাংকিং অ্যাপ থেকে স্ক্যান করুন।