• জুলাই ২৬, ২০২৬

    মেশিনের সুরে জেগেছে নতুন স্বপ্ন

    কখনো কখনো একটি মুহূর্তই বদলে দেয় জীবনের পরিচিত পথ। কিন্তু পথ বদলে গেলেই স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় না—সাহস আর সুযোগ পেলে মানুষ আবারও নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে পারে।

    রাবেয়া সুলতানা পিংকি—চট্টগ্রামের দক্ষিণ কাট্টলীর সরাইপাড়ার এক সংগ্রামী নারী। মা ও দুই বোনকে নিয়ে চারজনের সংসার। বাবা বেশ কয়েক বছর ধরে নিখোঁজ। পরিবারের বাস্তবতা কঠিন হলেও নিজের দক্ষতা ও পরিশ্রমে জীবনকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি।

    পিংকি একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। চট্টগ্রামের একটি স্বনামধন্য গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে ভালো বেতনে চাকরি করতেন। কর্মব্যস্ত জীবনে ছিল স্বপ্ন, ছিল পরিবারকে আগলে রাখার প্রত্যয়।

    কিন্তু একদিন রাস্তা পার হওয়ার সময় ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। তাঁর কোমর ও হাঁটু ভেঙে যায়। অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলেও আগের মতো দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে গার্মেন্টসে কাজ করার শারীরিক সক্ষমতা আর নেই।

    চাকরি থেমে গেল, কিন্তু থামেনি পিংকির স্বপ্ন।

    তিনি বুঝতে পেরেছিলেন—শরীর হয়তো আগের মতো সঙ্গ দিচ্ছে না, কিন্তু তাঁর হাতে এখনো রয়েছে ফ্যাশন ডিজাইনের অভিজ্ঞতা, সেলাইয়ের দক্ষতা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছাশক্তি।

    সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণাধীন জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডে একটি মোটরযুক্ত সেলাই মেশিনের জন্য আবেদন করেন তিনি।

    তাঁর পারিবারিক ও শারীরিক অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রদান করা হয় একটি মোটরযুক্ত সেলাই মেশিন।

    আজ সেই সেলাই মেশিনটি শুধু কাপড় সেলাইয়ের একটি উপকরণ নয়—এটি পিংকির কাছে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর অবলম্বন, আত্মনির্ভরতার স্বপ্ন এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ গুছিয়ে নেওয়ার এক নতুন সূচনা।

    কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পিংকি বলেন—

    “আমি আমার ফ্যাশন ডিজাইনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ঘরে বসে কাজ শুরু করতে চাই। ধীরে ধীরে একটি ক্ষুদ্র ব্যবসা গড়ে তুলে নিজের পায়ে দাঁড়াব। মা ও দুই বোনকে নিয়ে সম্মানের সঙ্গে সংসার গুছিয়ে নেওয়াই আমার স্বপ্ন। যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ড আমার প্রয়োজনের সময়ে যে সহযোগিতা করেছে, তা আমাকে শুধু একটি সেলাই মেশিন দেয়নি—নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস দিয়েছে।”

    একটি সেলাই মেশিন হয়তো ছোট্ট একটি সহায়তা, কিন্তু একজন সংগ্রামী নারীর হাতে সেটিই হয়ে উঠতে পারে আত্মমর্যাদা, জীবিকা ও স্বাবলম্বী ভবিষ্যতের চাবিকাঠি।

  • জুলাই ২২, ২০২৬

    বন্যাদুর্গতদের মানবিক চিকিৎসাসেবা

    বাঁশখালী (চট্টগ্রাম), ২১ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার:
    বন্যার দুর্যোগে যখন হাজারো পরিবার পানিবাহিত রোগ ও নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বিপর্যস্ত, ঠিক সেই কঠিন সময়ে মানবিক সহায়তার অঙ্গীকার নিয়ে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে দরবারে গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারীর গাউসিয়া হক মনজিলের শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণাধীন জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ড।

    চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের মনকিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত দিনব্যাপী বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পে বন্যাদুর্গত অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ডায়াবেটিস নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় সকল প্রকার ঔষধ প্রদান করা হয়।

    এ উপলক্ষে একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা.আফরিন,ডা. আমির খসরু এবং ডা.শহিদুল ইসলাম-এর সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়। অভিজ্ঞ এই চিকিৎসক দল দিনব্যাপী রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

    ক্যাম্পে প্রায় তিন শতাধিক বন্যাদুর্গত ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত অনেক মানুষ এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাবৃন্দ,মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ-এর স্থানীয় শাখার নেতৃবৃন্দ, সাংগঠনিক সমন্বয়ক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং মনকিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।

    দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে পরিচালিত এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। আয়োজকরা জানান, মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের মূল অঙ্গীকার। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় চিকিৎসাসেবা, ত্রাণ এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে-ইনশাআল্লাহ।

  • জুলাই ১৯, ২০২৬

    মানবিক সহায়তার এক অনুপ্রেরণার গল্প

    عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: مَنْ نَفَّسَ عَنْ مُؤْمِنٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا، نَفَّسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ.

    “যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার একটি দুঃখ-কষ্ট দূর করে দেয়, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার একটি দুঃখ-কষ্ট দূর করে দেবেন।”— সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯

    🟢 জীবনের কঠিন বাস্তবতায় অনেক সময় একটি ছোট সহায়তাই হয়ে ওঠে একটি পরিবারের নতুন আশার প্রদীপ।

    🟢 কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার উছরু গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ কল্পনা। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর স্বামী অসুস্থ। সংসারে দুই সন্তান নিয়ে নিত্যদিনের জীবনযুদ্ধ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছিল। স্বামীর অসুস্থতার কারণে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাও ছিল দুঃসাধ্য। নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস না থাকায় তিনি পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার জন্য একটি সেলাই মেশিন ও কাপড়ের সহায়তা কামনা করেন, যাতে ঘরে বসেই একটি ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করে সম্মানের সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।

    মানবিক আবেদনটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ড তাঁর আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে একটি সেলাই মেশিন এবং কাপড়সহ ক্ষুদ্র সেলাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদান করেছে।

    এই সহায়তা কেবল একটি সেলাই মেশিন উপহার নয়; এটি একটি পরিবারের আত্মমর্যাদা রক্ষা, স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক আন্তরিক প্রয়াস। আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি নিজে আয় করতে পারবেন এবং তাঁর সন্তানদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন, ইনশাআল্লাহ।

    💚মানুষের সেবাই আমাদের অঙ্গীকার—মানবতার কল্যাণেই আমাদের পথচলা। 💚

  • এপ্রিল ২৪, ২০২৬

    মশারির ছায়ায় নিরাপদ পরিবার

    আগুনিয়া চা বাগান ও তার আশেপাশের শতাধিক দরিদ্র পরিবারের মাঝে মশারি বিতরণ

    চট্টগ্রামের পাহাড়ঘেরা রাঙ্গুনীয়ার নিভৃত প্রান্তে, আগুনিয়া চা বাগানের সবুজে ঘেরা নৈসর্গিক পরিবেশে আজ যেন মানবতার এক নীরব উৎসব বয়ে গেল। দরবারে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীর গাউসিয়া হক মনজিলের শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ড—মানবকল্যাণের দীপ্ত প্রত্যয়ে এগিয়ে এলো আরেকটি মহতী প্রয়াস নিয়ে।

    আজ, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার। “মশারির ছায়ায় নিরাপদ পরিবার”—এই মমতাময় স্লোগানকে বুকে ধারণ করে আগুনিয়া চা বাগান ও তার আশেপাশের শতাধিক দরিদ্র পরিবারের মাঝে মশারি বিতরণ করা হয়। যেন প্রতিটি মশারির সূক্ষ্ম জালে বোনা হলো নিরাপত্তা, সুস্থতা আর ভালোবাসার অদৃশ্য প্রতিশ্রুতি।

    আগুনিয়া চা বাগানের ম্যানেজার মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মানবিক আয়োজনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম আল মাসুদ।

    আলোচনায় বক্তাগণ বলেন—
    মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করা মানেই একটি জাতির ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করা। মশারির এই ক্ষুদ্র উপহার হয়তো বাহ্যিকভাবে ছোট, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে অসংখ্য জীবনের নিরাপত্তা ও স্বস্তির আশ্বাস।

    হযরত সৈয়দ ছালেকুর রহমান শাহ (র.) দাতব্য চিকিৎসালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন সওদাগরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান উল্লাহ চৌধুরী বিভন, মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, মোজাম্মেল হক, রেজাউল করিম, মীর ওবাইদুল ইসলাম রনি, মোহাম্মদ তায়েফ, মোহাম্মদ শামি উদ্দিন ও মোহাম্মদ ওসমান রণি প্রমুখ।

    শেষে, বিতরণকৃত প্রতিটি মশারি যেন হয়ে উঠল একটি নিরাপদ রাত্রির প্রতীক—যেখানে ঘুমাবে নিশ্চিন্তে শিশু, হাসবে পরিবার, আর অদৃশ্য শত্রু থেকে রক্ষা পাবে জীবন।

    মানবতার এই আলোকযাত্রা অব্যাহত থাকুক—প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাক সুরক্ষার স্নিগ্ধ ছায়া।

  • মার্চ ২৫, ২০২৬

    বিনামূল্যে নাক ও কান ছেদন ক্যাম্প

    চন্দনাইশ পৌরসভা ১ নং ওয়ার্ড বদুর পাড়ায় বিনামূল্যে নাক ও কান ছেদন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

    চট্টগ্রামের চন্দনাইশ-এ হযরত মনছুর আলী শাহ (র.) এর বার্ষিক ওরশ শরীফ উপলক্ষে দরিদ্র পরিবারের কিশোরীদের জন্য বিনামূল্যে নাক ও কান ছেদন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের ব্যবস্থাপনায় এবং দোহাজারীস্থ হযরত সৈয়দ জালাল উদ্দিন বোখারী (র.) দাতব্য চিকিৎসালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ ক্যাম্পে স্থানীয় কয়েকশত কিশোরীকে বিনামূল্যে ঔষধসহ নাক ও কান ছেদন সেবা প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাজী মো. আবু তাহের চৌধুরী, সভাপতি—হযরত মনছুর আলী শাহ (র.) মাজার কমিটি ও সাধারণ সম্পাদক, বদুর পাড়া জামে মসজিদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জজ কোর্টের এডভোকেট বাকের চৌধুরী।

    প্রধান অতিথি এডভোকেট বাকের চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মানবসেবাই হলো প্রকৃত ইবাদত। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ইসলামের অন্যতম মহান শিক্ষা। শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণাধীন যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ড যেভাবে সমাজের দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বিশেষ করে কিশোরীদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ তাদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

    তিনি আরও বলেন, “হযরত মনছুর আলী শাহ (র.) এর ওরশ শরীফকে কেন্দ্র করে এমন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা সত্যিই অনুকরণীয়। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং আরও বৃহৎ পরিসরে বিস্তৃত হবে বলে আমি আশা করি।”

    তিনি সমাজের বিত্তবানদের এ ধরনের কল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেন।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মৌলানা বেলাল উদ্দীন, পেশ ইমাম, বদুর পাড়া জামে মসজিদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আহমদ জমির।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দাতব্য চিকিৎসালয়ের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আবদুর রহমান, মোহাম্মদ বাবুল সাহেব, মোহাম্মদ সাইফুলসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    আয়োজকরা জানান, মানবসেবামূলক এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • মার্চ ৮, ২০২৬

    দক্ষতায় বদলে যাচ্ছে নারীর জীবন

    যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের সেলাই প্রশিক্ষণে স্বাবলম্বী হচ্ছেন হাজারো নারী

    সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ড এর ব্যবস্থাপনায় দক্ষ নারী উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

    এই উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেলাই কাজের ব্যবহারিক ও প্রাথমিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে, যাতে প্রশিক্ষণার্থীরা দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের জীবিকা নির্বাহের পথ তৈরি করতে পারেন এবং পরিবারের আর্থিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হন।

    যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত এসব প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে ৪ হাজারেরও অধিক প্রশিক্ষণার্থী সফলভাবে সেলাই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের হাতে সেলাই মেশিন ও প্রশিক্ষণ সনদ প্রদান করা হয়েছে, যাতে তারা নিজ উদ্যোগে কাজ শুরু করে স্বাবলম্বী হতে পারেন।

    ইতোমধ্যে অনেক প্রশিক্ষণার্থী ঘরে বসেই সেলাই কাজের মাধ্যমে আয়মূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে নিজেদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই উদ্যোগ নারীদের আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের পাশাপাশি সমাজে দারিদ্র্য বিমোচনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

    বর্তমানে যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের তত্ত্বাবধানে এই সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সমাজের অধিক সংখ্যক নারী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারেন।

  • মার্চ ৫, ২০২৬

    মানবতার সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত

    অসহায় রোগীদের জীবন বাঁচাতে মানবিক সহায়তা—যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের মহৎ উদ্যোগ

    চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
    মানবতার কল্যাণে নীরবে কাজ করে যাচ্ছে শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ড। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করে প্রতিষ্ঠানটি মানবসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

    অর্থাভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত বহু দরিদ্র মানুষ যখন জীবন বাঁচানোর শেষ আশাটুকুও হারিয়ে ফেলেন, ঠিক তখনই যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ড তাদের পাশে এসে দাঁড়ায় সহমর্মিতা ও মানবিক দায়িত্ববোধ নিয়ে। ফান্ডটির উদ্যোগে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দরিদ্র রোগীদের প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহের পাশাপাশি জটিল ও ব্যয়বহুল অপারেশনের জন্যও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কয়েক শতাধিক অসচ্ছল রোগী এ উদ্যোগের মাধ্যমে চিকিৎসা সহায়তা পেয়েছেন। অর্থের অভাবে যাদের চিকিৎসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, তাদের অনেকেই এই সহায়তার ফলে সুস্থ জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

    যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের দায়িত্বশীলরা জানান, সমাজের বিত্তবান মানুষের যাকাত ও সাদাকাহ্ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসা সহায়তায় ব্যয় করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘব হচ্ছে, অন্যদিকে সমাজে মানবিক সহমর্মিতার চেতনা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

    মানবকল্যাণে নিবেদিত এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ও দানশীল ব্যক্তিদেরকে মানবসেবামূলক এই উদ্যোগে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬

    মানবসেবার এক অনুপম দৃষ্টান্ত

    পবিত্র মাহে রমজানুল মোবারকের আলোয় মানবসেবার এক অনুপম দৃষ্টান্ত

    বরকত, রহমত ও মাগফিরাতের পবিত্র মাস মাহে রমজান মানুষকে শেখায় আত্মসংযম, সহমর্মিতা ও দানশীলতার মহিমা। এই মহিমান্বিত মাসে ইবাদতের পাশাপাশি মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে এগিয়ে আসাই যেন প্রকৃত তাকওয়ার পরিচয়। সেই আদর্শকে ধারণ করে মানবকল্যাণে নিরলস সেবায় নিয়োজিত রয়েছে শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণাধীন মানবকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ড

    দেশব্যাপী পরিচালিত ১৫টি দাতব্য চিকিৎসালয়ের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভাস্থ খান প্লাজায় স্থাপিত হযরত সৈয়দ জালাল উদ্দিন বোখারী (র.) দাতব্য চিকিৎসালয় মানবতার সেবায় এক উজ্জ্বল প্রদীপ হয়ে জ্বলে আছে। প্রতি সপ্তাহে নিয়মিতভাবে এখানে সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধসেবা প্রদান করা হয়—যেখানে রোগমুক্তির সাথে সাথে মানুষ ফিরে পায় আশার নতুন আলো।

    এই পবিত্র রমজানে সেই সেবার ধারাবাহিকতায় চন্দনাইশ উপজেলার হাসিমপুর এলাকার রাজারপাড়া নিবাসী তৈয়ব আলী (পিতা: আতর আলী, মাতা: লায়লা বেগম) সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হার্নিয়া অপারেশনের মাধ্যমে সুস্থতার নতুন জীবন লাভ করেন। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে দীর্ঘদিন চিকিৎসাবঞ্চিত এই মানুষটির মুখে আজ স্বস্তির হাসি—যা রমজানের দানশীলতা ও মানবতার প্রকৃত সৌন্দর্যকে উন্মোচিত করে।

    অপারেশন কার্যক্রম দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করেন বান্দরবান সদর হাসপাতালের সার্জন ডাঃ অজয় কিশোর বড়ুয়া, এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (সার্জারি–শেষ পর্ব)। সামগ্রিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডাঃ আবদুর রহমান। তাঁদের নিষ্ঠা ও মানবিক দায়বদ্ধতা চিকিৎসাসেবাকে করেছে আরও আলোকিত ও মর্যাদাপূর্ণ।

    রমজান আমাদের শেখায়—“মানুষের সেবাই সর্বোত্তম ইবাদত।” সেই বাণীকে জীবন্ত করে তুলেছে যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের এই সেবাধারা। এখানে চিকিৎসা শুধু শারীরিক আরোগ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের হৃদয়ে জাগিয়ে তোলে মর্যাদা, আস্থা ও মানবিকতার গভীর অনুভব।

    মানবতার এই আলো যেন রমজানের চাঁদের মতোই ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়ে সমাজের প্রতিটি প্রান্তে—এই প্রার্থনাই সকলের।

  • জানুয়ারি ২০, ২০২৬

    হোছনেয়ারা বেগমের সফল অস্ত্রোপচার

    যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের সহায়তায় সফল অস্ত্রোপচার

    🟢 মানবজীবন কখনো কখনো অসহায়তার এমন এক প্রান্তে এসে দাঁড়ায়, যেখানে বেঁচে থাকার আশাটুকুও হয়ে ওঠে অনিশ্চিত। ঠিক তেমনই এক মানবিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিলেন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আশিয়া গ্রামের বাসিন্দা হোছনেয়ারা বেগম (৬৮)।

    🟢 মরহুম ছৈয়দ আহমদ ও আছমা খাতুনের কন্যা হোছনেয়ারা বেগম দীর্ঘ চার বছর আগে স্ট্রোকজনিত কারণে শারীরিকভাবে আংশিক পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন। অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেই চলছিল তাঁর জীবন। এরই মধ্যে এক মাস আগে গোসল করতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত পা পিছলে পড়ে গিয়ে গুরুতরভাবে পায়ের হাড় ভেঙে যায়। দ্রুত তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার করানো তাঁর পরিবারের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠছিল না।

    🟢 এই অবস্থায় মানবতার শেষ আশ্রয় হিসেবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয় শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের সঙ্গে। বিষয়টি অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ড মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে হোছনেয়ারা বেগমের সম্পূর্ণ চিকিৎসার ভার গ্রহণ করে।

    🟢 আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে আজ তাঁর অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। দীর্ঘ যন্ত্রণার পর তাঁর চোখেমুখে এখন স্বস্তির ছাপ—যেন নতুন করে বাঁচার আলো ফিরে পেয়েছেন তিনি।

    🟢 এই মানবিক উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করে, যাকাত শুধু দান নয়—এটি অসহায় মানুষের জন্য জীবন বাঁচানোর এক শক্তিশালী মাধ্যম। যাকাত ওয়েলফেয়ার ফান্ডের এ ধরনের সহানুভূতিশীল কার্যক্রম সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

  • জানুয়ারি ১২, ২০২৬

    ভুল নিয়মে ওরস্যালাইন ব্যবহারে বাড়ছে ‘লবণের বিষক্রিয়া’

    ডায়রিয়া ও বমিজনিত পানিশূন্যতা থেকে জীবন বাঁচাতে ওরস্যালাইন (ORS) একটি বিশ্বস্বীকৃত ও কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ভুল নিয়মে ওরস্যালাইন ব্যবহার শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—অল্প পানিতে ওরস্যালাইন গুলে খাওয়ানো বা ডাবের পানির সঙ্গে মেশানো শিশুর কিডনি বিকল হওয়া পর্যন্ত গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

    কীভাবে সমস্যা তৈরি হয়?

    ওরস্যালাইন একটি নির্দিষ্ট অনুপাতে লবণ ও গ্লুকোজের সমন্বয়। এটি কাজ করে তখনই, যখন তা নির্ধারিত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানিতে গুলে খাওয়ানো হয়।
    কিন্তু অনেক অভিভাবক পুরো প্যাকেট ওরস্যালাইন আধা লিটার বা তারও কম পানিতে গুলে ফেলেন অথবা ডাবের পানির সঙ্গে মিশিয়ে দেন। ফলে শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত লবণ প্রবেশ করে।

    এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় Hypernatremia বা লবণের বিষক্রিয়া—যেখানে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

    শিশুর শরীরে কী ঘটে?

    শিশুর কিডনি খুবই সংবেদনশীল। অতিরিক্ত লবণ শরীরে ঢুকলে—

    • কিডনি রক্ত থেকে লবণ ছেঁকে বের করতে অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ে
    • শরীর থেকে দ্রুত পানি বের হয়ে গিয়ে মারাত্মক পানিশূন্যতা তৈরি হয়
    • মস্তিষ্কে পানি কমে গিয়ে খিঁচুনি, অচেতনতা এমনকি কোমা পর্যন্ত হতে পারে
    • কিডনি অস্থায়ী বা স্থায়ীভাবে বিকল হয়ে যেতে পারে

    অনেক ক্ষেত্রে শিশুর প্রস্রাব কমে যায়, শরীর ফুলে ওঠে, শ্বাসকষ্ট হয় এবং দ্রুত হাসপাতালে না নিলে জীবননাশের ঝুঁকি দেখা দেয়।

    ডাবের পানির সঙ্গে স্যালাইন কেন বিপজ্জনক?

    ডাবের পানিতে প্রাকৃতিকভাবেই কিছু লবণ ও মিনারেল থাকে। যখন তার সঙ্গে আবার ওরস্যালাইন মেশানো হয়, তখন—

    • লবণের মাত্রা দ্বিগুণ হয়ে যায়
    • শরীরের স্বাভাবিক ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়
    • শিশুর কিডনি ও মস্তিষ্কে মারাত্মক চাপ পড়ে

    এটি অনেক সময় অভিভাবকদের অজান্তেই শিশুর মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করে।

    সঠিক নিয়ম কী?

    বিশেষজ্ঞদের মতে—

    • ওরস্যালাইনের প্রতিটি প্যাকেট নির্ধারিত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানিতে (যা প্যাকেটে লেখা থাকে) গুলতে হবে
    • কখনোই অর্ধেক পানি, ডাবের পানি, জুস বা অন্য কোনো তরলের সঙ্গে মেশানো যাবে না
    • মিশ্রণ তৈরির পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার শেষ করতে হবে

    সচেতনতা জরুরি

    ডায়রিয়া শিশুদের একটি সাধারণ রোগ হলেও ভুল ওরস্যাল্‌যালাইন প্রয়োগ সেটিকে প্রাণঘাতী করে তুলতে পারে। তাই প্রতিটি মা–বাবা ও অভিভাবকের জানা অত্যন্ত জরুরি—
    যে ওরস্যালাইন জীবন বাঁচায়, ভুল নিয়মে সেটিই শিশুর কিডনি ধ্বংস করতে পারে।

    জনসচেতনতা ও সঠিক জ্ঞানই পারে এই নীরব বিপদ থেকে আমাদের শিশুদের রক্ষা করতে।

ডিজিটাল যাকাত বাক্স

আর্তমানবতার সেবায় আপনার যাকাত প্রদান করতে বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়সহ যে কোনো ব্যাংকিং অ্যাপ থেকে স্ক্যান করুন।